আমাদের সমাজে একটি চলতি কথা আছে যে, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম নাকি অনেকেই বোঝে না। তবে দাঁতের গুরুত্ব দিতে গিয়ে কেউ অতিরিক্ত যত্ন নিতে শুরু করলে  তাহলে কিন্তু লাভ না হয়ে পুরোটাই ক্ষতি হতে পারে। দাঁত আমাদের সৌন্দর্যের অন্যতম উৎস। সুন্দর সাদা দাঁত আমাদের সবারই পছন্দ।

কিন্ত এরকম আকর্ষণীয় দাঁত পেতে আমাদের নিতে হবে দাঁতের সঠিক যত্ন যেটা আমরা বেশিরভাগ মানুষই করিনা। কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে আমাদের দাঁত এবং মাড়ি প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।দাঁতের যত্ন নেওয়ার সেরা দশটি উপায় ।

১. মনোযোগ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন

ব্যস্ততার কারণে সকালে অনেকেই একসাথে কয়েকটা কাজ করেন। দেখা যায়, দাঁত ব্রাশ করতে করতেই গোসল করছেন বা মেইল চেক করছে। কিন্তু ভালো দাঁত পেতে হলে দাঁত ব্রাশ করতে হবে মনোযোগ দিয়ে। দাঁতের কোন অংশ যাতে বাদ না পড়ে এবং ভালোভাবে পরিষ্কার হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

২. পরিষ্কার টুথব্রাশ

অনেকেই টুথব্রাশ নিয়ে একটু বেশিই সচেতন থাকেন। বারবার ধুতে থাকেন এমনকি জীবাণুমুক্ত করার জন্য ওভেনের ভিতরেও রাখেন। এতে অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস হয়ে যায়। পরিষ্কার কোন জায়গায় রাখলে এবং দাঁত ব্রাশ করার আগে অল্প একটু ধুয়ে নিলেই তা যথেষ্ট।

৩. জুস খাওয়া যাবে না

অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেই অরেঞ্জ বা লেমন জুস খেয়ে থাকেন। এতে দাঁতের ক্ষতি হয়। বরং পানি বা দুধ খেয়ে নিয়ে বা ঘুম থেকে উঠার ৩০ মিনিট পর এসব খাওয়া যেতে পারে।

৪. ধূমপান ত্যাগ করুন

ধূমপান শুধু আমাদের হৃদপিণ্ড বা ফুসফুসেরই ক্ষতি করে না। আমাদের দাঁত নষ্ট করার জন্য দায়ী। ধূমপানের ফলে মাড়ি কালো হয়ে যায়, দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে এমনকি পড়েও যেতে পারে, মুখে দুর্গন্ধও হয়।

৫. টুথপিক থেকে দূরে থাকুন

দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকলে টুথপিক দিয়ে খুঁচিয়ে বের করার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই আছে। কিন্তু কাঠের তৈরি শক্ত এসব টুথপিক ভেঙে দাঁতের মধ্যে থেকে যেতে পারে অথবা জোরে জোরে দাঁত খোঁচালে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে ফ্লস ব্যবহার করা উত্তম।

৬. নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যান

আমরা নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়াটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। এই অবহেলার কারণে আমাদের দাঁতের মান ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তাই প্রতি ৬ মাসে অন্তত একবার দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

৭. ফ্লোরাইডের চাহিদা মেটানো

ফ্লোরাইড আমাদের দাঁত থেকে চিনি এবং এসিড ধুয়ে দাঁতকে সুস্থ রাখে। তাই দাঁতের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্লোরাইড প্রয়োজন। অনেক এলাকার পানিতে ফ্লোরাইড থাকে। এই পানি দাঁতের জন্য ভালো। নইলে ফ্লোরাইড আছে এমন টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত।

৮. পরিমাণমত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি

হাড় এবং দাঁতের গঠনে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর কোন বিকল্প নেই। তাই যথেষ্ট পরিমাণে এই দুই উপাদান গ্রহণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৯. শক্ত ব্রাশকে না বলুন

দাঁত বেশি পরিষ্কার হবে ভেবে অনেকেই শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এতে দাঁতের প্রয়োজনীয় এনামেল দূর হয়ে যায়। তাই নরম ব্রাশ ব্যবহার করা উত্তম।

১০. রিটেইনার ব্যবহার করুন

অনেকেই ছোটবেলায় বা প্রাপ্তবয়সে দাঁতে ব্রেস ব্যবহার করেন আঁকাবাঁকা দাঁতগুলোকে সুন্দর আকৃতি দেয়ার জন্য। কিন্তু দাঁত ঠিক হয়ে গেলে তার আর রিটেইনার ব্যবহার করেন না। এতে দাঁতের অবস্থা আবার আগের মত হয়ে যেতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রিটেইনার ব্যবহার করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *