রাম রহিমের প্রাসাদ চত্বরে সুইমিং পুল এর নিচে সেক্স করার ঘর।

ভারতের হরিয়ানার স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু গুরমিত সিং রাম রহিম ধর্ষণের দায়ে বর্তমানে জেলে সাজা ভোগ করছেন। এরইমধ্যে তার হরিয়ানার সিরসার ডেরায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। কথিত এই ধর্মগুরু তার হরিয়ানায় সিরসার ডেরায় পানির নিচে গোপন ‘সেক্স কেভ’ বা ‘যৌন গুহার’ সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই গোপন গুহার মধ্যেই নারীদের নিয়ে নানারকমের কুকীর্তি করতেন গুরুজি। জোর করে সেখানেই নারীদের যৌন হেনস্তা করা হতো।

৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাম রহিমের ডেরায় কয়েকশ পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা ও ভিডিওচিত্র সাংবাদিকের বিশাল একটি দল অভিযান চালায়। মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা সম্পদ খোঁজার জন্য সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল খননযন্ত্র।

রাম রহিমের প্রাসাদ চত্বরে যে সুইমিং পুল রয়েছে, তার নিচেই ওই সেক্স কেভ অর্থাৎ যৌন গুহা গড়ে তুলেছিলেন ডেরাপ্রধান।

প্রায় ৮০০ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা ‘ডেরা সচ্চা সৌদা’র দুটি কক্ষ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযানের শুরুতেই ডেরা থেকে অর্থ, নিষিদ্ধ মুদ্রা, হার্ড ডিস্ক, কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করা হয়।

সাবেক বিচারপতি এ কে এস পাওয়ারের নেতৃত্বে ডেরার বাইরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, কমান্ডো, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রস্তুত ছিল।

যৌন গুহা ছাড়াও ডেরার ভেতরে আছে বিলাসবহুল ১৫টি রিসোর্ট। এগুলো তার ব্যক্তিগত ডিজনিল্যান্ডের ভেতরে অবস্থিত। এ ডিজনিল্যান্ডের ভেতরে আইফেল টাওয়ার, ক্রুজ জাহাজ ও তাজমহলসহ বিখ্যাত ভবনের আদলে রিসোর্ট তৈরি করেন ধর্ষকগুরু। প্রতিটি রিসোর্টে দুই থেকে তিনটি কক্ষ রয়েছে।

ডেরার ভেতরের ওই ডিজনি ওয়ার্ল্ডে রাম রহিমের পালক মেয়ে হানিপ্রীত ইনসানের প্রবেশাধিকার ছিল। এছাড়া অল্প কয়েকজন বিশ্বস্ত সহযোগী ছাড়া সেখানে আর কারও প্রবেশাধিকার ছিল না। এসব রিসোর্টে তিনি নারীদের (সাধ্বী) নিয়মিত যৌন নির্যাতন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রোজ রাতে রাম রহিম প্রধান সাধ্বীকে ফোন করে একজন অল্প বয়সী মেয়েকে ব্যক্তিগত ডিজনিল্যান্ডে তার কক্ষে পাঠানোর জন্য বলতেন। আর সেখানেই তিনি ওই সাধ্বীকে ধর্ষণসহ যৌন নির্যাতন করতেন, যা ডেরায় ‘বাবার মাফি’ নামে পরিচিত।

ডেরার ভেতরে একটি গোলাপি ভবন রয়েছে বলে জানা গেছে। যা রাম রহিমের কুখ্যাত ‘গুফা’ (গুহা) নামে পরিচিত। ওই বাড়িতেই নারীদের ধর্ষণ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ সব কিছুর অনুসন্ধান করা হবে।

২৮ আগস্ট রোহতকের সুনারিয়া জেলে ধর্ষণের দায়ে ভারতের স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু গুরমিত সিংহ রাম রহিমের ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের সাজা ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে প্রতিটিতে ১৫ লাখ রুপি করে মোট ৩০ লক্ষ রুপি জরিমানা করা হয় এই বিতর্কিত ধর্মগুরুকে। এই রায় ঘোষণা করেন সিবিআই আদালতের বিচারক।

এর আগে, ২৫ আগস্ট শুক্রবার হরিয়ানার পঞ্চকুলার একটি আদালতে স্বঘোষিত ধর্মগুরু রাম রহিমকে ধর্ষণ মামলার দোষী সাব্যস্ত করার পর থেকে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে হরিয়ানা ও পাঞ্জাবজুড়ে এ পর্যন্ত ৩২ জনের প্রাণহানি ও দুই শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *